বিদেশে যাওয়ার আগে যে ৫টি বিষয় জানা জরুরি
চিত্র: সঠিক কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভিসা যাচাইয়ের মাধ্যমেই নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিত হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। বিদেশে কর্মসংস্থান শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ভাগ্যোন্নয়ন ঘটায় না, বরং দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের রেমিট্যান্স অবদান রাখে। তবে সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতির অভাবে অনেকেই বিদেশে গিয়ে চরম দুর্ভোগ, বেতন বকেয়া বা প্রতারণার শিকার হন। সরকারিভাবে বা বৈধ উপায়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর আগে কিছু প্রস্তুতি ও মৌলিক বিষয় জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। নিচে ৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:
এই আর্টিকেলের প্রধান বিষয়বস্তু:
- বিএমইটি (BMET) ভিসা যাচাইকরণ
- কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র পরীক্ষণ
- কারিগরি হ্যান্ডস-অন স্কিল অর্জন
- ভাষার দক্ষতা ও সামাজিক নিয়মাবলি
১ ভিসা ও বিএমইটি (BMET) নিবন্ধন নিশ্চিত করা
বিদেশে পাড়ি জমানোর সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো আপনার ভিসার বৈধতা নিশ্চিত করা। বিএমইটি (BMET — Bureau of Manpower Employment and Training) রেজিস্ট্রেশন এবং ক্লিয়ারেন্স কার্ড ছাড়া বিদেশে কাজ করতে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
- অনলাইন ডাটাবেজ চেক: বিএমইটি-এর অফিসিয়াল পোর্টাল (ami-probashi) থেকে ভিসার পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে রিয়েল-টাইম স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
- ফ্রি-ভিসা প্রতারণা পরিহার: 'ফ্রি-ভিসা' নামের কাল্পনিক শব্দে বিশ্বাস করবেন না। সকল কাঙ্ক্ষিত ভিসার সাথে নির্দিষ্ট কফিল বা কোম্পানির নাম যুক্ত থাকতে হয়।
২ চুক্তিপত্র (Job Contract) বিস্তারিতভাবে পড়ে স্বাক্ষর করা
বিদেশে গিয়ে বেতনের গড়মিল বা অতিরিক্ত খাটিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ চুক্তিপত্র না বুঝে সই করা। এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগেই আপনার নিয়োগকারী কোম্পানির অরিজিনাল অফার লেটার সংগ্রহ করুন।
- মাসিক মূল বেতন এবং ওভারটাইম (Overtime) হার।
- থাকা-খাওয়া কোম্পানি বহন করবে নাকি নিজে প্রদান করতে হবে।
- সাপ্তাহিক ছুটি, বাৎসরিক ছুটি এবং চিকিৎসার সুবিধা।
- কোম্পানি কত বছর মেয়াদে ইকামা (Iqama/Visa Renewal) রিনিউ করবে।
৩ আন্তর্জাতিকমানের ব্যবহারিক কাজের দক্ষতা অর্জনে নজর দেওয়া
আপনি যদি কেবল একজন 'সাধারণ শ্রমিক' বা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান, তবে বেতন অত্যন্ত কম হবে এবং কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি জিএসডিটিআই থেকে **ইলেকট্রিশিয়ান, 5G/6G ওয়েল্ডিং, প্লাম্বিং, সিসিটিভি সেটআপ বা টাইলস ফিক্সিং**-এর মতো কোর্সে ব্যবহারিক সনদ নেন, তবে প্রারম্ভিক বেতন কয়েকগুণ বেশি হবে।
"দক্ষ কর্মী কখনো কর্মহীন থাকে না। বিদেশে যাওয়ার আগে ১ থেকে ৩ মাসের টেকনিক্যাল ট্রেনিং নেওয়া আপনার প্রবাস জীবনের সেরা বিনিয়োগ।"
— জিএসডিটিআই ওভারসিজ কারিগরি প্যানেল
৪ কাজের পরিবেশ ও ভাষা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান
ভাষা বুঝতে না পারলে সাইট ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশনা বোঝা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সৌদিয়া, কাতার বা দুবাইয়ের জন্য আরবি ভাষার জরুরি টার্মগুলো এবং আন্তর্জাতিক সাইটের জন্য বেসিক ইংরেজি কথা বলা শিখুন।
৫ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া
স্থানীয় অপরিচিত দালালের হাতে নগদে টাকা বা মূল পাসপোর্ট হস্তান্তর করবেন না। রিক্রুটিং এজেন্সির আরএল (RL) নাম্বার সরকারি তালিকায় আছে কিনা দেখে নিন। সব সময় ব্যাংক ড্রাফট বা রসিদের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করুন।
উপসংহার:
বিদেশে কাজের সুযোগ আপনার ও আপনার পরিবারের জীবনমান বদলে দিতে পারে—যদি তা হয় সঠিক প্রস্তুতি ও কারিগরি দক্ষতার সাথে। জিএসডিটিআই (Global Skill Development Training Institute) শত শত তরুণকে আধুনিক ল্যাবে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক চাকরির জন্য প্রস্তুত করে আসছে।